৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে হোটেলে ফের অগ্নিকাণ্ড, রক্ষা পেলেন তিন শতাধিক পর্যটক

প্রকাশ:

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত ‘দ্য সি প্রিসেন্স’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে হোটেলটির নিচতলার পার্কিং এলাকা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তবে দ্রুত সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেই ঘটনার ছয় দিনের মাথায় কক্সবাজারের আরেকটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রের হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের পার্কিং এলাকার জেনারেটরসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের এই সূত্রপাত হয়েছে। প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের দাবি করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে এবং কর্মীদের তৎপরতায় পর্যটকদের বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করা গেছে। তবে মাত্র ছয় দিন আগেই ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক ঘটনার পর পর্যটন নগরীতে আবারও হোটেলে আগুনের ঘটনা পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। কর্মীদের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগুন লাগলে পর্যটকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রস্তুতিও থাকা প্রয়োজন।

পর্যটন এলাকায় অবস্থিত হোটেল ও রিসোর্টগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ, জেনারেটর ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং জরুরি বহির্গমন পথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা ও মনিটরিংয়ের জোরালো দাবি উঠেছে। কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক হোটেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আগুনের ক্ষেত্রে দ্রুত জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।

শেয়ার করুন