৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা

প্রকাশ:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। পাঁচ দিনের ব্যাপক উৎসব ও পূজা-অর্চনার পর বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন ঘাটে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। দেবীর কাছে শান্তি ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ছিল বিসর্জনের আবেগঘন মুহূর্ত। দেবীর কাছে মঙ্গল কামনার পাশাপাশি অনেকে নদীর পানি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন। এদিকে, চট্টগ্রাম নগরেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন মন্দির ও এলাকা থেকে ঢাকঢোল, কাঁসর ও বাদ্যযন্ত্রের তালে শোভাযাত্রা নিয়ে ভক্তরা ঘাটে জড়ো হন। বিসর্জনের আগে সকালে মণ্ডপগুলোতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। তারা একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। একইসঙ্গে দেবীর চরণে তেল, পান ও মিষ্টি নিবেদন করে শেষবারের মতো কৃতজ্ঞতা জানান ভক্তরা। পরে নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। ঢাকের তালে নাচ-গান ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনস্থল।

চট্টগ্রামে বিসর্জনের মূল কেন্দ্র ছিল পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশ নিতে আলোকসজ্জিত ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। পতেঙ্গা ছাড়াও অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের চোখে ছিল অশ্রু, যা ঢাকের আওয়াজ আর উলুধ্বনির মাঝেও এক বিষাদময় পরিবেশ তৈরি করে।

উৎসবটি নির্বিঘ্ন করতে রাজধানী ও বন্দরনগরীসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলে ডিএমপি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকারিভাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।

দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক। এই উৎসব হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

শেয়ার করুন