৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে কর্মী নিয়োগ শুরু ১ এপ্রিল থেকে

প্রকাশ:

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ইএসডিপি-এমওসি) শীর্ষক এই চুক্তিটি গত ১৭ অক্টোবর সম্পন্ন হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বাংলাদেশের পক্ষে এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা জাপানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, যেভাবে আবেদন।

চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছে পাঁচ বছর, যা পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি পাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে এটি ১০ বছর কার্যকর থাকবে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও জাপান কর্মী পাঠানো এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া জাপানি কর্মীদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে, যা কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়াবে।

চুক্তিতে লিঙ্গসমতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ পাবেন। গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো নারী কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কোনো কর্মীকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর মতো বাধ্যতামূলক বিধান চুক্তিতে রাখা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, এই উদ্যোগ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ বিস্তৃত করবে। যেসব দেশে সরকারি ছুটি সবচেয়ে বেশি, শীর্ষ দশে আছে বাংলাদেশও।

বর্তমানে উভয় দেশ এই চুক্তি কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাপানি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের পথ প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন