৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পিকার -: ইশরাক হোসেনের মাদক ও দুর্বৃত্ত দমনে যাওয়ার

প্রকাশ:

মাদক ও অপরাধ দমনে ইশরাক হোসেনের উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও তার ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়াটা অশোভন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, স্পিকার সম্প্রতি ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই দুটি উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। তবে তার নিজের হাতে অস্ত্র নেওয়াটা ঠিক হয়নি, এটি তার পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।’। আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে।’।

স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। প্রয়োজনে দলীয় কর্মীরাও তাকে সহযোগিতা করতে পারতেন। একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র থাকাটা তার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়। এই শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্পিকার জানান। তবে মাদক ও অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যটি ভালো ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ইশরাক হোসেন পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে গিয়েছিলেন। একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ অস্ত্র কোনোটিই শোভা পায় না।’।

বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী আপসহীন। অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়। এর দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, ঢাকায় এক নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অবিভক্ত ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও একইভাবে পদত্যাগ করেছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে তার কাজের মূল্যায়ন করবেন।’।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের দুঃশাসনের পর জনগণ বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। স্পিকার আরও বলেন, অতীতের কোনো সরকারই নিজেদের দলীয় লোকজনের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, যা বর্তমান সরকার করছে।

শেয়ার করুন