৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমির: জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত

প্রকাশ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা কোনো লুটেরা বা চাঁদাবাজের স্বার্থে জীবন বা রক্ত দেয়নি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রাক্তন সাথী ও সদস্যদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিটি কর্মীকে হালাল পথে জীবিকা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। সততা ও নৈতিকতার কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করতে হবে, যা একজন আদর্শ নাগরিকের বৈশিষ্ট্য। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে। এসব কথার জবাব দেওয়ার ন্যূনতম সময় আমাদের নেই। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই এই আন্দোলন পরিচালিত হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অতীতের আদর্শিক শিক্ষা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। জনগণের এই প্রত্যাশাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় চট্টগ্রাম বীরদর্পে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে, যা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। এই পরিবর্তন ছাড়া দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ছাত্রশিবির নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সবার হৃদয়ে সেই ঈমানের তেজ ও ফুলকি এখনো প্রবলভাবে জাগ্রত রয়েছে। সেই চেতনাই আগামী দিনের পথচলার পাথেয় হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান যোগ করেন, দেশের সাধারণ মানুষ একটি কার্যকর আদর্শিক পরিবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল পরামর্শ দেন যে, ছাত্রজীবনে সংগঠন থেকে প্রাপ্ত নীতি, নৈতিকতা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের শিক্ষা যেন পুরো জীবনজুড়ে কাজে লাগানো হয়। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ক্ষুদ্র কোনো বিষয়ে দলাদলি বা বিভেদ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্যই আমাদের শক্তি।

সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামকে ইসলামের শান্তির রঙে রাঙিয়ে তুলতে হলে প্রাক্তন সাথী ও সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই। একই আশা ব্যক্ত করে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশ একদিন ইনসাফভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মুমিনের জীবনের দৃষ্টান্ত একটি মজবুত ভবনের মতো, যেখানে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হয়।

দিনব্যাপী এই সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তার সঙ্গে সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ এবং মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।

শেয়ার করুন