৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজ কিশোরের দেহাবশেষ উদ্ধার: এসআরবির অভিযানে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ:

টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যানসহ নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছর বয়সী কিশোর মো. সবুজের হাড়গোড় ও পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দীর্ঘ ২৪ দিন পর উপজেলার আন্দি এলাকার একটি শালবনের ঝোপঝাড় থেকে তার এই দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবুজ সখিপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ মোড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফেরেনি।

ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গত ১৯ অক্টোবর বাসাইল এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। হাবিবুর সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মাটিয়ারগুন গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার আন্দি এলাকার ওই শালবনে অভিযান চালায় এসআরবি। পরে সবুজের বাবা সিরাজ মিয়া ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া কাপড় ও জুতা দেখে ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিখোঁজের দিনই সবুজের বাবা সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওইদিন গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী বাজার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভ্যানটি উদ্ধার করা হলেও সবুজের কোনো হদিস মেলেনি। এ নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ২৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সবুজের বাবা-মা।

এদিকে সবুজের মা অভিযোগ করেছেন, গোপালপুর থানার ওসির গাফিলতির কারণেই লাশ উদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুরুতেই দুজন আসামি গ্রেপ্তার ও ভ্যান উদ্ধারের পর তাদের ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক আগেই ছেলের সন্ধান পাওয়া যেত। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তখন পুলিশের কাছে গেলে উল্টো ওসি সাহেব তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন ও ধমক দিয়েছেন।

নিখোঁজ সবুজের মায়ের তোলা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন। তিনি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু তখন তাদের কাছ থেকে সবুজের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া থানায় তাদের সাথে কোনো ধরনের অসদাচরণ করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। ‎নিখোঁজ সবুজের মায়ের অভিযোগের জবাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর দুজন লোকের সহযোগিতায় আমরা একটি ভ্যান উদ্ধার করেছি এবং দুজন লোককে গ্রেপ্তার করেছি, গ্রেপ্তারকৃতদ।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর সবুজকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পুলিশি তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন