দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে লিওনেল মেসি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এবং প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছেন। তবে বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড ছিল একমাত্র ব্যতিক্রম, যাদের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামা হয়নি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর। অবশেষে বুধবার রাতে আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই শতাধিক ম্যাচ খেলা মেসি এই লড়াই নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নামাটা বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তিনি প্রতিপক্ষকে দারুণ শক্তিশালী দল হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ মানেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনা তার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ উপহার দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি প্রসঙ্গে মেসি বলেন, তিনি ভিডিও ও ছবির মাধ্যমেই সেই ম্যাচের কথা জানেন এবং আর্জেন্টিনার মানুষ এখনো সেই স্মৃতি লালন করে। তবে তিনি বর্তমান ম্যাচের প্রতিপক্ষ যেই হোক, নিজের দলের স্বাভাবিক খেলাটা খেলাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০০৫ সালের নভেম্বরে জেনেভায় প্রীতি ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হলেও মেসি সেদিন মাঠে ছিলেন না। হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন তিনি। মেসিবিহীন সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন; ২১ বছর পর দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে, যেখানে একদল শিরোপা ধরে রাখতে চায় এবং অন্যদল ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না খেললেও ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে মেসির রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে তিনি ২৭ গোল করেছেন এবং ৬টি গোলে সহায়তা করেছেন। বিশেষ করে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত বিধ্বংসী, এই দুই দলের বিপক্ষেই তিনি ১৬টি গোল করেছেন।





