২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন সংগ্রামীর জীবনের গল্প শুনলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:

নিজ কর্মগুণে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকারীদের মধ্যে রয়েছেন বুয়েট স্নাতক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ রোপণকারী রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য পেয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শোনেন। তাঁদের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশ গঠনে এ ধরনের নিবেদিতপ্রাণ মানুষের বড় প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ দেশ গড়ার পথকে আরও সুগম করবে। সাক্ষাৎকারে নায়লা শারাফের পেশা নির্বাচনের নেপথ্যের কাহিনী উঠে আসে। বুয়েট থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা শেষে তিনি এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরি না নিয়ে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ানোর ব্রত গ্রহণ করেন। বিগত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি, যেখানে শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিজেই তৈরি করছেন নানা ডিজিটাল কনটেন্ট ও শিক্ষা উপকরণ।

অনুপ্রেরণার আরেকটি নাম নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন, যিনি জন্মগতভাবে দুই হাতহীন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তিনি পা দিয়ে লিখতে শিখেছেন। ২০০৭ সালে নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির টাকায় নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে। আলতাফ হোসেন নিজেই পা দিয়ে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও শিক্ষাদান সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এসব সংগ্রামী মানুষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন