২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ দেশ থেকেই এলো ৬০ শতাংশ রেমিট্যান্স

প্রকাশ:

দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ শতাংশই এসেছে পাঁচটি দেশ থেকে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকে দেশে এসেছে প্রায় ৫০৯ কোটি ডলার। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৭৫৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০১ কোটি ডলার বা প্রায় ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।

রেমিট্যান্স প্রবাহের উৎস ও পরিসংখ্যান

  • সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার।
  • দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।
  • মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।

চলতি অক্টোবরেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে এসেছে ১১৭ কোটি ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৯ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি লেনদেন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির কারণে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকার আশপাশে অবস্থান করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ব্যয় ১২ দশমিক ২০ শতাংশ এবং রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান পরিস্থিতি

আমদানি ব্যয় বাড়লেও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফ-এর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত জুনে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। এরও আগে ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নানা অর্থনৈতিক চাপে রিজার্ভ কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে তা আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। সামগ্রিকভাবে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শেয়ার করুন