২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর

প্রকাশ:

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্কুলটিতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দেখেন, হাজিরা রেজিস্টারে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ বাস্তবে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র তিনজনকে। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও পাঠদানে তাদের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

পরিদর্শন বহিতে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ার পারভীন ও সজল। বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের নামসহ পুরো বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন সহকারী শিক্ষক সুপ্রভাত পারিবারিক মামলার কারণে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ৭ দিনের মধ্যে লিখিত আকারে জবাব দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। বিনা অনুমতিতে ছুটির আবেদন ছাড়াই অন্য শিক্ষকেরা অনুপস্থিত ছিলেন বলে পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুপস্থিতির কারণ এবং এ বিষয়ে আগে থেকে অবহিত না করার ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। সকালে স্কুলে হাজিরা দিয়ে তিনি চলে এসেছেন বলে মন্তব্য করলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া বাকি অনুপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজন শিক্ষক পাওয়া যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইটনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম মো. এহছানুল হক জানান, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা ও শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা অপরিহার্য। বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে পাওয়া অনিয়মের এ চিত্র শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

শেয়ার করুন