রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরেন কুয়েটের গবেষকরা। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গবেষণার মূল কারিগর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণায় তারা ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে বায়োক্রুড বা জৈব অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে এবং ডিজেলসমৃদ্ধ তেল উৎপাদনেও ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।
গবেষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ হিসেবে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে, যার জন্য আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন। প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব বলে গবেষকরা আশা করছেন। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এর কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বছরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে এটি পরিবেশদূষণ রোধ, জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশে মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রযুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





