২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারের উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: হতাহতের শঙ্কা

প্রকাশ:

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে পারস্য সাগরে চলাচলকারী বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে ৯৪ কিলোমিটার বা ৫৮ মাইল উত্তরে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও, তাদের সঠিক সংখ্যা বা আক্রান্ত জাহাজটির জাতীয় পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। ইউকেএমটিও এই ঘটনায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে।

বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’-এর মতে, পারস্য উপসাগরের এই পশ্চিমাঞ্চলে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা খুবই বিরল। তবে সামগ্রিকভাবে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বাড়ছে। ইউকেএমটিওর তথ্যমতে, চলতি মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে নয়টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের প্রায় অর্ধেক। এ বিষয়ে কাতার কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করে। বর্তমানে ইরান প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরে অবরোধ বজায় রাখছে।

সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। তথ্য সংস্থা কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলার নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব দৈনিক ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক অন্য এক ঘটনায় কাতারের ড্রাইভিং স্কুলগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোধে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

শেয়ার করুন