২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলেই কারিগরি শিক্ষা চালু করছে ইংল্যান্ড

প্রকাশ:

ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৯ সাল থেকে দেশটির ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ধরনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক সনদ চালু করা হবে। প্রথাগত একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই কারিকুলামে নির্মাণ ও বিল্ডিং, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, অর্থ এবং শিশু বিকাশের মতো বিষয়গুলো যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকোয়াল’ এই নতুন সনদের মান নির্ধারণ করবে, যাতে বিদ্যমান জিসিএসই সনদের ফলাফলের সঙ্গে এর একটি সামঞ্জস্য থাকে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে উত্তরণ সহজতর করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। সরকার চায়, ১৬ বছর বয়সের পর শিক্ষার্থীরা যেন আরও উচ্চতর কারিগরি কোর্সে সহজে এগিয়ে যেতে পারে। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকেই নতুন ভি-লেভেল এবং বিদ্যমান টি-লেভেল কোর্সগুলো কার্যকর থাকবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্কুলগুলোতে দক্ষ শিক্ষক এবং আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ম্যানচেস্টারের রাইট রবিনসন কলেজের প্রধান শিক্ষক মার্টিন হাওর্থের মতে, নতুন যোগ্যতাগুলোকে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর বাস্তব মূল্য যোগ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যবহারিক বিষয়গুলোর মান ঠিক রাখতে হলে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ এবং শ্রেণিকক্ষ পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত বাড়তি অর্থের জোগান দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে স্কুলগুলোর অতিরিক্ত অর্থ ও দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন হবে।

কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য কর্মঅভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে দুই লাখ কর্মঅভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বর্তমান ক্যারিয়ার নির্দেশনায় ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য অর্থবহ কাজের সুযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় ক্যারিয়ার হাবগুলো বিভিন্ন নিয়োগদাতাদের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ বা কাজের সুযোগ প্রদানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। এর মাধ্যমে স্কুল জীবন থেকেই শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। ১৬ বছরের আগেই কাজের অভিজ্ঞতা।

সামগ্রিকভাবে, ইংল্যান্ড সরকার একাডেমিক শিক্ষার বাইরে ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে চায়। তবে প্রয়োজনীয় বাজেট, দক্ষ জনবল এবং পরিকাঠামো নিশ্চিত করার ওপরই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সাফল্য নির্ভর করছে। নতুন এই শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বের সেরা ১০০০ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশের ৩ বেসরকারি ও এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন