২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে দেশছাড়া করা যাবে না

প্রকাশ:

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটকে রেখে তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। বিচারপতির স্পষ্ট অভিমত হলো, কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে দেশছাড়া করার কোনো আইনি ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে, যা এই ঘটনায় অনুপস্থিত ছিল বলে মনে করছেন আদালত। এসময় মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে (আটক ব্যক্তি) কোনো সুযোগই দেয়নি বলে জানান বিচারপতি।

আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলামের তথ্যমতে, প্রতিবেশীদের দেওয়া অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতে গত ৮ আগস্ট থেকেই তার মক্কেলকে আটক রাখা হয়েছে। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) দেওয়া দেশত্যাগের নির্দেশ এবং স্বামীর আটকের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই স্ত্রী আদালতে রিট দায়ের করেছিলেন। এ সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বর্তমানের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘১৯৭০-এর দশক থেকে কত লোক সীমান্ত অতিক্রম করেছেন?’ এছাড়া, বিচারক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক রাখা না হয়। আপাতত ওই ব্যক্তির দেশছাড়া হওয়ার আদেশ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং মামলাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, ‘গত ৮ আগস্ট থেকে কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের ভিত্তি’তেই তার মক্কেলকে আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঐ ব্যক্তিকে কেন দুই মাস ধরে হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ কেন ‘একটি পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করেনি। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেবল এ ধরনের তথ্যের ওপর ভর করে কীভাবে একজন মানুষের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বেশ কিছু বিজেপি শাসিত রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালের বিচারিক আদেশ ছাড়াই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার আওতায় সন্দেহভাজনদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ আটকে রেখে সংক্ষিপ্ত কোনো আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নজির দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি আদালতের হস্তক্ষেপে এমন চারজন ভারতীয় নাগরিক—যাদের মধ্যে একজন নারী ও দুটি শিশু ছিল—বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এক বছর কাটানোর পর গত জুলাই মাসে মালদার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরতে সক্ষম হন। জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিজেপিশাসিত অনেক রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের তারা ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করছে এবং আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ ছাড়াই বিএসএফের সহ।

শেয়ার করুন