আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রত্যাখ্যান করে শরিয়াহর অনুসারী শক্তিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি তাদের বিজয়ী করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন।
দেশের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তবে মুফতি রেজাউল করীমের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং শ্রমিকবান্ধব কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
পরিবহন খাতে অটোরিকশাচালকদের ওপর চলা জুলুম-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের ওপর নির্যাতন না চালিয়ে বরং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষা করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন কাঠামো গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের দাবি বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন। এছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও আশরাফ আলী আকনও বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় কাউন্সিল থেকে ২০২৭-২৮ বর্ষের জন্য ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেন চরমোনাই পীর। এতে মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান কেন্দ্রীয় সভাপতি, কে এম বিল্লাল হোসাইন সহসভাপতি এবং এইচ এম রফিকুল ইসলাম সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।





