প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন। তিনি এখন থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করবেন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—যেটি আগে ঘটে—ততদিন তিনি সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকবেন। শর্ত অনুযায়ী, এই পদে যোগদানের আগেই তাকে অন্য সব পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমান কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। নিয়োগের বিস্তারিত শর্তাবলি পরবর্তীতে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষাদান ও গবেষণায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটিতে ‘প্রিন্সিপাল লেকচারার ইন পুলিশ এডুকেশন’ বা সহযোগী অধ্যাপক সমমান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি কেন্ট ও এসেক্স পুলিশ কলেজের অধীনে বিএসসি (সম্মান) ও গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সের প্রোগ্রাম লিডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের সাতটি পুলিশ বাহিনীর জন্য ডিগ্রি হোল্ডার এন্ট্রি প্রোগ্রামের একাডেমিক প্রধান এবং একাডেমিক সততা প্রধান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডি মন্টফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা ও গবেষণা পরিচালনার ইতিহাস রয়েছে।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন সাংবাদিকতা ও পুলিশ সেবা দিয়ে শুরু হয়েছিল। তিনি দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক যুগান্তরসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বরত ছিলেন। এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা ও তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পরবর্তীতে আইনি পেশার দিকে ঝুঁকে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিনকনস ইন’ থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল অর্জন করেন এবং যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী গিয়াস উদ্দিন রিমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (LSE) থেকে ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস পলিসি’ বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পাশাপাশি নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং দ্য ইউনিভার্সিটি অব ল থেকে বিপিটিসি সম্পন্ন করেছেন। তার এই অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসের ‘চেভনিং স্কলারশিপ’ এবং জাপান সরকারের ‘সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ ইনভিটেশন প্রোগ্রাম’ অর্জন করেছিলেন।





