২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশ্মীরে ‘অবৈধ’ বাংলাদেশি ধরপাকড়, ৩০০ জনকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ

প্রকাশ:

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠানোর বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশিকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, প্রায় ৬০০ জন ‘অবৈধ অভিবাসী’ বাংলাদেশ থেকে এসে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মু অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অনেকের কাছেই কোনো বৈধ ভিসা নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে দুটি পৃথক দলে ভাগ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জম্মু অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দলটির সমর্থকদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি স্থানীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলের বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এর বাইরেও, পরিচয়পত্রহীন এসব ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে প্রশাসন। তাদের ধারণা, অবৈধ এসব বাসিন্দাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালেও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে রোহিঙ্গাদের আটক ও ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটেছিল। পরিচয়পত্রহীন এসব ব্যক্তিকে অপরাধ বা চরমপন্থি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বলছে প্রশাসন।

তবে এই ধরপাকড় ও ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকরা। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশি জানান, আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি, যা অনুযায়ী কাউকে এমন স্থানে ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অভিবাসীদের অনেকেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক মানবিক সুবিধাবঞ্চিত।

উল্লেখ্য, ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, ফলে তারা রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক শরণার্থী মর্যাদা প্রদান করে না। তবে হারুন রেশি মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর না থাকলেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন সময়ে দেশটির সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বিদেশিদেরও মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এই আইনি বিতর্কের মধ্যেই বর্তমানে চলমান ধরপাকড় অভিযানটি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন