২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির পরিকল্পনা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের

প্রকাশ:

বাংলাদেশে তাদের খুচরা ব্যাংকিং (ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং) ব্যবসা বিক্রির সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। তারা জানিয়েছে, যে সব খাতে ব্যাংকটির বৈশ্বিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সবচেয়ে বেশি, সেখানে মনোযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই ঘোষণা আমাদের সেই কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য হলো যেখানে আমাদের গ্রাহক প্রস্তাবনা সবচেয়ে স্বতন্ত্র ও জোরালো, সেখানে সম্পদ ও কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করা।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান লুৎফুল হাবিব গ্রাহকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসা বিক্রির এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সব মিলিয়ে ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এটি চূড়ান্তভাবে নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এই বেচাকেনা হবে।

এই পরিবর্তন নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবসা বিক্রির ঘোষণার কারণে গ্রাহকদের লেনদেনে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। রূপান্তরকালীন এই পুরো সময়জুড়ে আগের মতোই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। গ্রাহকদের সেবা যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্যাংকটি। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘নিশ্চিত থাকুন যে এই রূপান্তরকালীন পুরো সময় আমরা একই যত্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে আপনাকে সেবা প্রদান করে যাব। এই রূপান্তর চলাকালীন যেকোনো প্রাসঙ্গিক অগ্রগতির বিষয়ে আমরা আপনাকে নিয়মিত অবহিত করব।’। বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই ব্যবসার হস্তান্তর নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবসা বিক্রির বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের নিয়মিতভাবে অবহিত করা হবে। ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তাদের করপোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসার ওপর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তসীমান্ত মূলধনের প্রবাহ ও অবকাঠামো অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ব্যাংকটির বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়িয়ে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে ১২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। ব্যাংকটি স্পষ্ট করেছে যে, খুচরা ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করা হলেও এ দেশের বাজারের প্রতি তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম আগের মতোই অটুট থাকবে। বাংলাদেশ তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ব্যাংকটি তাদের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ও বিশেষজ্ঞ দক্ষতার মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সবশেষে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় যেসব কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের স্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। চূড়ান্ত লেনদেন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন