২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

প্রকাশ:

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যুটি নিয়ে ভারতের অবস্থান তিনি বারবার ব্যাখ্যা করেছেন। তবে হঠাৎ করেই সোমবার তিনি ঢাকা ছেড়ে নয়াদিল্লি সফর করছেন। প্রায় তিনদিনের এই ব্যস্ত সফরসূচিতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সফরের মঙ্গলবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। এটি ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর দ্বিতীয় বৈঠক। রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে বাংলাদেশ সম্পর্কে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিপোর্ট করা যায় এবং দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার আপত্তি থাকলেও এই অভিজ্ঞ রাজনীতিককে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব দেয়া হয়, যাতে মোদির সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগের পথ প্রশস্ত থাকে।

দিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিবেদীর এই সফরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই দিন তিনি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে জানানো হয়, এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করা এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সামরিক বোঝাপড়া, নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ সহযোগিতার নানা বিষয় তিনি ভারতের সামরিক ও নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশন বা সমঝোতার বিষয়েও ত্রিবেদীর সক্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তিনি এক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ প্রস্তাব বা বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের মধ্যেকার বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ কার্যকর রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের দুদিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। ত্রিবেদীর এই সফর মূলত দুই দেশের মধ্যকার এই চলমান প্রক্রিয়াগুলোর সমন্বয় ও উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন