২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃটেনে সমকামী সেজে আশ্রয় জালিয়াতি: ৩ জন আটক

প্রকাশ:

বৃটেনে সমকামী পরিচয়ের আড়ালে ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন করতে অভিবাসীদের সহায়তা করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন কর্মকর্তারা তাদের আটক করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা জাল নথি, সাজানো ছবি এবং মনগড়া প্রমাণ তৈরির বিনিময়ে প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আদায় করতেন। তাদের ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, গয়না এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। একই অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থান করার দায়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’ কেন্দ্রিক এই জালিয়াতি চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফৌজদারি তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, চক্রটি আশ্রয়ের আবেদনের সময় ভুয়া চিঠিপত্র, সংগঠনের প্যাডে জাল প্রত্যয়নপত্র এবং সমকামী সম্পর্কের দাবি জোরালো করতে সাজানো ছবি সরবরাহ করত। এ কাজের জন্য তারা ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিত। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়প্রার্থী এমন অনেক বাংলাদেশি পুরুষকে সহায়তা করেছেন, যারা বাংলাদেশে ফিরলে যৌন পরিচয়ের কারণে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট শতাধিক আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু আবেদন এরই মধ্যে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিবিসির এক অনুসন্ধানে আশ্রয় জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। তখন তানিসা খান নামের এক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ছদ্মবেশী সাংবাদিককে সমকামী পরিচয় দিয়ে আশ্রয় পাওয়ার বিস্তারিত প্যাকেজ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও তানিসা খান তার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা প্রমাণের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এর আগে ‘উস্টার এলজিবিটি’ নামের একটি সংগঠনের নামও এই জালিয়াতির সাথে জড়িয়েছিল, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়। গত এপ্রিলের ওই প্রতিবেদনে তানিসা খান নামে এক উপদেষ্টাকে ছদ্মবেশী সাংবাদিককে গে ক্লাবের ছবি ও অন্যান্য সহায়ক প্রমাণসহ একটি ‘বিস্তারিত প্যাকেজ’ দেয়ার কথা বলতে দেখা যায়। বিবিসির অনুসন্ধানে এমন একটি অনুষ্ঠানের কথাও উঠে আসে, যেখানে উপস্থিত কয়েকজন পুরুষ সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে তারা প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন।

এদিকে জালিয়াতির এই ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা নিপীড়নের মিথ্যা দাবি তুলে দেশটির আশ্রয়ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, অপরাধী চক্রের অবৈধ অর্থ জব্দ করা হবে এবং তাদের ব্যবসা বা কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হবে। জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধা নিতে চাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন নাকচ করে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। যারা আশ্রয়ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতারণা করবেন, তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

শেয়ার করুন