হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ৩ নম্বর শিবপাশা ইউনিয়নের আন্ধাবাড়ী গ্রামে গত মঙ্গলবার দুপুরে শয্যাশায়ী এক প্রবীণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে প্রাণনাশের অভিযোগ উঠেছে তারই সন্তানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহাবুদ্দিন মিয়া (৬৫) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে পরিবারের অন্য সদস্যরা গ্রামের অন্য একটি জানাজায় অংশ নিতে বাইরে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত তরুণের নাম ইয়াফিন মিয়া, যিনি নিহত শাহাবুদ্দিনের ছয় ছেলে ও এক কন্যার মধ্যে চতুর্থ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, ইয়াফিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নলিউর রহমান তালুকদার ও সদস্য জয়নাল মিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক মাদকাসক্ত অবস্থায় তার ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে ধারালো দা দিয়ে আঘাত করেছেন বলে তারা অবগত হয়েছেন। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে শাহাবুদ্দিন মিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়। ঘর ফাঁকা থাকার সুযোগে ইয়াফিন ঘরে ঢুকে ধারালো দা দিয়ে নিজ বাবাকে জবাই করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীর লাশ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো দা-টি জব্দ করে। পরবর্তীতে পরিচালিত অভিযানে শিবপাশা বাজার এলাকা থেকে ইয়াফিনকে আটক করা হয়। আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বজিৎ পাল জানিয়েছেন, নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শাহাবুদ্দিন দীর্ঘমেয়াদী ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং অভিযুক্ত ইয়াফিন গত প্রায় দুই বছর ধরে মানসিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
প্রাথমিক আইনি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর শাহাবুদ্দিন মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত ইয়াফিনকে আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।





