যৌতুকের জন্য স্ত্রী ও নিজের শিশুসন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত রাকিবুল হাসানের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার তেলিনা উত্তরপাড়া গ্রামে এবং তার পিতার নাম মো. আকবর আলী। যৌতুকের জন্য স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামী রাকিবুল হাসানকে (২৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, দোষী সাব্যস্ত রাকিবুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া মামলার অপর একটি ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উভয় সাজা একত্রে কার্যকর হবে এবং জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগী স্ত্রী ও সন্তান ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কনা আক্তার ইতির ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালাতেন রাকিব। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কনা তাদের ১৮ মাসের সন্তান মোহাম্মদকে নিয়ে বাবার বাড়ি আজগানা গ্রামে চলে যান। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বিকেলে রাকিব শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
আগুনে কনার মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ ও হাত এবং শিশুর কপাল ও পা ঝলসে যায়। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আদালতে মোট ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় প্রদান করেন।





