২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশ:

নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো স্থানে যদি নির্ধারিত মূল্যে এই জ্বালানি পাওয়া না যায়, তবে বিষয়টি জনস্বার্থে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে অনিয়মের চিত্র উঠে এলে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় সরকার দ্রুত কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অভিযানই একমাত্র সমাধান করতে পারে, সরকার এমনটা মনে করে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা থাকলেও সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এলপিজির বর্তমান সরবরাহ সংকট দ্রুত কেটে যাবে।

জেলা পর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সাথে অনলাইন সভায় যুক্ত হয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে। ইতিমধ্যে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, এলপিজি আমদানিকারক ও বোতলজাতকারী ব্যবসায়ী যেন আন্তর্জাতিক বাজারের প্রেক্ষাপটে একটি ন্যায্যমূল্য পান। এতে সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি তৈরি হবে না এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকবে।

তিনি জানান, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। শুধু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের ক্ষেত্রেও আইনগত পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানোর কাজ চলমান রয়েছে। এলপিজি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হওয়ায় সরকার একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। তিনি বলেন, এটা তো অত্যন্ত এসেনশিয়াল একটি পণ্য, এটা ছাড়া আসলে চলা যায় না। একইসঙ্গে যারা আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু অ্যাকশন নেওয়ার কথা আমরা বলছি।

শেয়ার করুন