১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে মাশকলাইয়ে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

প্রকাশ:

যমুনা নদীবেষ্টিত সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন মাশকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর এই ফসল চাষ করে ভালো মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এবার মাশকলাই আবাদের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাধারণত জুলাই ও আগস্ট মাসে এই ফসলের বীজ রোপণ করা হয়, যা চরাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী। কাজিপুরসহ জেলার ছয়টি ইউনিয়নে এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। গতবছর মাষকলাই চাষে লাভের মুখ দেখায় এবছর এই ফসল চাষে অধিক আগ্রহ দেখা গেছে কৃষকদের মাঝে। তাই যমুনার পূর্বপারে দিগন্তজোড়া চর মাষকলাইয়ে ছেয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাশকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কৃষকরা প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন করেছেন। অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে লক্ষ্যমাত্রায় কিছুটা প্রভাব পড়লেও উৎপাদন বাড়াতে সরকারিভাবে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরই যমুনাভাঙন জনপদের কাজিপুর উপজেলায় হাজার হাজার আবাদি জমির ফসল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থার উত্তোরণে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে নানান ধরনের সবজি চাষে নামে কৃষকরা।

মনসুরনগর ইউনিয়নের কৃষক সবুর মিয়া জানান, দুই বিঘা জমিতে মাশকলাই চাষ করেছেন। এই ফসলে সার ও সেচের খরচ অনেক কম হওয়ায় এটি বেশ লাভজনক। ছরগিরিশ এলাকার চাষি হান্নান জানিয়েছেন, নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি বাড়তি এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি আবাদ করছেন এবং নিয়মিত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিচ্ছেন। তেকানীর কৃষক জামাল উদ্দিনের ভাষ্যমতে, বন্যার পর পতিত জমিতে মাশকলাই চাষ করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি পরবর্তীতে ধানের ফলনও ভালো পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ মাশকলাই পাওয়ার আশা করছেন তারা। ছরগিরিশের চাষি হান্নান বলেন, নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি আরও ১ বিঘা বর্গা নিয়ে মাশকলাই লাগিয়েছি।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের লাভবান করতে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন এবং ফলন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছেন। আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগে নদীপাড়ের উর্বর পলিতে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।

শেয়ার করুন