সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের পশ্চিম কুমারিয়াবাড়ী গ্রামে অবস্থিত সুজুনি খাল। এই খালটির ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে প্রায় ছয় দশক ধরে দুই জেলার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কাজিপুরের মনসুরনগর ও চরগিরিশ এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ও সাতপোয়া—এই চার ইউনিয়নের মানুষজন নিত্য প্রয়োজনে খালটি পারাপার করেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খালের পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের পূর্ব তীরে একটি উচ্চবিদ্যালয় ও একটি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। ফলে কাজিপুরের চরাঞ্চলের মানুষকে প্রায়শই বিশেষ করে হাটের দিন একসাথে অনেকজনকে এই খাল পার হতে হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হাটবাজার ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এখন খেয়ানৌকা। তবে বিকেলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার মতে, বর্ষাকালে নৌকায় পারাপারের জন্য চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগলেও শুকনো মৌসুমে খাল শুকিয়ে গেলেও উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় চলাচলের দুর্ভোগ থেকেই যায়। বিশেষ করে বর্ষায় উভয় পাশের সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জরুরি সেবা ও দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে খাল পারাপারে তাঁদের ভরসা নৌকা। তখন কারো হাসপাতালে যাবার প্রয়োজন হলে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কোন গতি থাকে না। সারা বছরই মানুষের কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, খালে পানি থাকলেও পারাপারে সমস্যা, না থাকলেও যাতায়াতে সমস্যা।
চরগিরিশ এম মনসুর আলী জাতীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম জানান, বন্যার সময় বিদ্যালয় এবং পাশের এএফএম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত নৌকার অভাবে শিক্ষার্থীদের সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিয়া খাতুন জানিয়েছে, নৌকা পেতে দেরি হলে প্রায়ই ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না, যা তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায়। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যেতে পারিনা।
কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই সেতু না থাকা বড় বাধা। মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান হবি জানান, কৃষি জমি চাষাবাদ ও ফসল ঘরে তোলার মৌসুমে এই খাল পারাপার করা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম দুলাল মনে করেন, একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষকেরা দ্রুত তাদের পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিষয়টি নিয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল জানান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে উভয় এলাকার মানুষের জন্যই সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। তবে এলাকাটি কাজিপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে তাদের সেতু নির্মাণের আইনি সুযোগ নেই। অন্যদিকে, কাজিপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মুনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।





