চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যের প্রতিকৃতি সম্বলিত ছবি মুখের সামনে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি পুনরায় প্রধান ফটকে ফিরে আসার পর শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তাঁরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ স্লোগান দেন। মিছিলের সময় দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে ছবি হাতে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘অনেকে বলছে আমাদের আন্দোলনে ক্যাম্পাসের বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। স্বল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ‘আইকন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এই আন্দোলনের সঙ্গে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ বার্তা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, নবজাগরণের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। চুয়েটের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর এই যৌক্তিক দাবিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি, সবার আগে বাংলাদেশ এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে আপনি যে নবজাগরণের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে আশা ও স্বপ্ন জাগিয়েছেন এবং একটি নতুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা সেই বাংলাদেশেরই তরুণ প্রজন্ম।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
এই পরিবর্তনের পর থেকেই অধ্যাপক সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে কমপ্লিট শাটডাউন, মশাল মিছিল ও লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।





