কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি সন্ত্রাসবাদে মদদ অব্যাহত রাখে, তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বা হামলা চালাতেও নয়া দিল্লি প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
শান্তি বনাম দুর্বলতা
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাজনাথ সিং উল্লেখ করেন, ভারত সর্বদা শান্তিতে বিশ্বাসী একটি রাষ্ট্র। দেশটি কখনো যুদ্ধ বা অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড গ্রাস করতে চায় না। তবে ভারতের এই শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে কেউ যেন দুর্বলতা মনে না করে। তিনি বলেন, ভারত শান্তি চায়, কিন্তু নীরব থাকার অর্থ এই নয় যে তারা দুর্বল। এই দুই বিষয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে এবং কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাস ছড়ালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আমরা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চাই না, কাউকে হুমকিও দিতে চাই না। তবে নীরব থাকা আর দুর্বলতার মধ্যে পার্থক্য আছে।’। এ বার্তা ওই দেশসহ বিশ্ববাসীকে জানাতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংলাপ ও সহযোগিতার শর্ত
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, ভারত দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয়। তবে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বা নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করে অন্য কোনো দেশের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে সরাসরি নাম উল্লেখ না থাকলেও এটি মূলত পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নয়া দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যদিও পাকিস্তান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভারতের দাবি মতে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিহত হন। সেই সময় ভারত পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। পাকিস্তান এসব অভিযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে আসছে।





