১৯৬৩ সালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ বা ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন যে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা আজও ইতিহাসের অংশ। ঠিক একইভাবে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় নির্বাসিত জীবনে থাকাকালীন তার মাতৃভূমিকে নিয়ে একটি স্বপ্ন লালন করেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি কেবল স্বপ্ন দেখেননি, বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিএনপির ৩১ দফার রূপরেখাকে সামনে রেখে ঘোষণা করেছেন ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’।
দেশে ফেরার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে জীবনধারা অনুসরণ করছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক গভীর আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। নিজের ব্যক্তিগত চালচলনে তিনি চরম পরিমিতিবোধের পরিচয় দিয়েছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন আপন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমনকি একজন প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় চলাচল করেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভাবনীয়। নিজের গাড়ির জ্বালানি খরচ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয় পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই তিনি সাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করেছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের জীবনযাত্রা এত সাধারণ হওয়া সচরাচর দেখা যায় না, তবে তার এই বিনয়ী দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করেছে। অনেকের মতে, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে এই সাধারণ জীবনের পথে যাত্রা শুরু করেছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সাবলীল পদচারণা ও কর্মপদ্ধতির সাথে তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কার্যক্রমে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশ ও দলকে নতুন করে বোঝার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এর প্রমাণ হয়তো শিগগিরই জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে তার দেওয়া ভাষণে পাওয়া যাবে। সম্প্রতি তার মালয়েশিয়া সফর যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম তাকে বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করেছেন এবং ‘আমার বন্ধু মহা জাদু জানে’ গানটির মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সব দেশের সাথে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, যা তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার সে স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথ ততটা সহজ ছিল না, এটা সবার জানা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমেরিকার সমাজে অহিংসার নীতিকে প্রতিষ্ঠা করার সে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এখনো বহন করে আমেরিকার জনগোষ্ঠী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার স্বপ্নকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই বলে আমেরিকা বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসলে মানুষের জীবনে যখন স্বপ্ন থাকে, তখন সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য থাকে পরিকল্পনা, যা প্রকাশ পায় জীবনের পথচলায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে ফিরে আসার গল্পটা দেশের মানুষের কারও অজানা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর তার ভাষণের প্রিয় অংশ ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কথাটা মুহূর্তে সারা দেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তা তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই একই ভাষণে বিএনপির ৩১ দফাকে সামনে রেখে আবার বলেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।’ ‘আমি’ শব্দটিকে জাদুর মতো ‘আমরা’য় পরিণত করার মতো দূরদর্শিতা সেদিন তারেক রহমান দেখাতে পেরেছেন বলেই মানুষ আবার নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছে তার হাত ধরে।





