৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভর্তুকির চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশ:

দেশের সীমিত সম্পদের সুষম বণ্টন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তেল পাচারের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ ঢালতে পারে না। সীমিত সামর্থ্যের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইএমএফের কোনো শর্তের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের সামাজিক কল্যাণ ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনার ভিত্তিতেই নিজস্ব নীতি অনুযায়ী সরকার এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্বালানি তেলের দামের তুলনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান ব্যাখ্যা করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় জ্বালানির দাম অনেক কম থাকলে সীমান্ত দিয়ে পাচারের ঝুঁকি বাড়ে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অনুধাবন করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকার বর্তমানে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তা দিচ্ছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারের কৌশল তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ও টিসিবির খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সাময়িক জ্বালানি সংকট কেটে গেলে বাজারে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়বে। এই বিনিয়োগ এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি সহায়তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে, যা তরুণ ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিগত শাসনামলে পুলিশ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে পুলিশকে একটি সেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে পুলিশের মনোবলের ঘাটতি থাকলেও, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে দ্রুতই স্বাভাবিক পুলিশি কার্যক্রম ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা সেই অবস্থান থেকে বের হয়ে পুলিশকে জনগণের প্রকৃত সেবামুখী বাহিনী হিসেবে দেখতে চাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কোনো একটি খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক রাখতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ শুধু সেখানেই নিবেদিত করতে পারে না।

শেয়ার করুন