বিশ্বকাপে আর্লিং হালান্দের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স নিয়ে যত বিতর্ক

প্রকাশ:

মায়ামি স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে হ্যারি কেইন এবং আর্লিং হালান্দের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে নিয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন জুড বেলিংহাম। দুটি গোল করে তিনি নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের জয়। অথচ ম্যাচটি অন্যরকম হতে পারতো, কারণ নরওয়ে শুরুতে গোল করেও ফাউলের অভিযোগে তা বাতিল হওয়ায় পিছিয়ে পড়ে। গোলরক্ষকের হাত থেকে ফসকে যাওয়া বলে বেলিংহামের গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচেও মিকেল মেরিনোর ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।

ম্যাচজুড়ে আর্লিং হালান্দকে কড়া মার্কিংয়ে রাখা হয়েছিল এবং সতীর্থদের কাছ থেকেও তিনি প্রত্যাশিত বল পাননি। এমনকি অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ বল পাস না দিয়ে নিজে গোল করার চেষ্টা করলে হালান্দকে বিরক্ত হতে দেখা যায়। হালান্দের এই নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। অনেকে মনে করছেন, ইংল্যান্ডে জন্ম ও ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার কারণে তিনি হয়তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দিতে চাননি। আবার কেউবা ভাবছেন, ১৯৯০ বিশ্বকাপে ন্যাপোলির মাঠে ইতালিকে হারানোর পর ম্যারাডোনাকে যেমন ‘বিশ্বাসঘাতক’ বা ‘নিমকহারাম’ শুনতে হয়েছিল, সেই বদনামের ভয় থেকেই হালান্দ হয়তো নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন।

ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত গোল নিয়ে বৃটিশদের মনে আজও ক্ষোভ রয়েছে, যা তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় ‘ঈশ্বরের হাত’ বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। হালান্দের ক্ষেত্রেও এমন কোনো রহস্য আছে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আফটেনপোস্টেন এই বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে বলেছে, এটি ছিল এক আনন্দময় উৎসব, যদিও পরাজয়ের কষ্টটা অসীম। এদিকে, জয় পেলেও ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের কাছে আরও ভালো খেলার প্রত্যাশা ছিল তার এবং তিনি হতাশ। ১৯৬৬ সালের পর ৬০ বছর ধরে শিরোপার অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডের জন্য এই জয় সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত করেছে।

৮৬’র মেক্সিকো বিশ্বকাপে তাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

শেয়ার করুন