৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ:

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় এই অধিবেশনে তার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিবারটির দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমানের এই সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। জাতিসংঘে ভাষণদানের এই প্রক্রিয়াটি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে চলছে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। সেই বিশেষ অধিবেশনে তিনি ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ১৯৯৫ সালের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২০০২ সালের শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন উল্লেখযোগ্য।

এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক সূচি অনুযায়ী ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বনেতাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভাষ্যমতে, ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়টি উঠে আসবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও এর অর্থায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় প্রাধান্য পাবে।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে কূটনৈতিক ধারার সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে তা প্রাণবন্ত ছিল। এবার ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মাধ্যমে সেই ধারায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে।

শেয়ার করুন