৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানের পাহাড়ে শুরু জুমের ধান কাটার উৎসব

প্রকাশ:

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখন জুমের পাকা ধান কাটার ভরা মৌসুম। পাহাড়ের সবুজ ঢালে কোথাও দুলছে সোনালি ধান, আবার কোথাও শুরু হয়েছে ফসল কাটার কর্মযজ্ঞ। বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর কঠোর পরিশ্রমের পর এই ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমচাষিরা। নতুন ধান ওঠাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের জনপদে এখন নবান্নের আমেজ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ জুম চাষ। প্রকৃতি ও মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই কৃষিপদ্ধতিতে পাহাড়িরা ধান ছাড়াও মারফা, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, তিল, মরিচ ও আদার মতো অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ ধরনের সাথি ফসল একই জমিতে উৎপাদন করেন। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে জমি নির্বাচন করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। মার্চ-এপ্রিলে গাছপালা পোড়ানোর পর বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকেন কৃষকরা। বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টিপাত হলে শুরু হয় বীজ বপন। বপনের সময়ের পার্থক্যের কারণে ধান পাকার সময়ও ভিন্ন হয়, যা সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে।

আলীকদমের আদু পাড়ার জুমচাষি মেনক্রাত ম্রো জানান, তিনি প্রায় পাঁচ একর পাহাড়ি জমিতে চাষাবাদ করেছেন। সময়মতো বৃষ্টির সুবাদে এবার ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তার প্রত্যাশা, তিন একর জমি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ আড়ি ধান পাওয়া যাবে। জুমে উৎপাদিত সাথি ফসলের মাধ্যমে পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি কিছু আয়ও সম্ভব হয় বলে তিনি জানান।

মাতামুহুরী রিজার্ভ এলাকায় ধান কাটায় নিয়োজিত পাংসিং ম্রো বলেন, জুম চাষই তাদের প্রধান খাদ্যের অবলম্বন। এটি ছাড়া পাহাড়িদের বিকল্প কোনো উপায় নেই। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতংপুং ম্রো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব জুম চাষে স্পষ্ট। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির কারণে ফসলের ফলন নিয়ে সবসময় অনিশ্চয়তা কাজ করে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ১১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একই পরিমাণ জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর প্রায় ১৩ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌফিক আহমেদ নূর জানান, জেলায় জুম চাষের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। সময়মতো বৃষ্টির ফলে এ বছর ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে বৃষ্টিপাতের তারতম্যে সব এলাকায় ফলন সমান হয় না। আলীকদমের দুর্গম এলাকা থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত ও হাইব্রিড ধান চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই কৃষিপদ্ধতি পাহাড়ি মানুষের খাদ্য, অর্থনীতি, সামাজিক জীবন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ধান শুকিয়ে জুমঘর থেকে মূলঘরে তোলা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন ধানের ভাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদে নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন