৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে শুরু হলো ২৫তম বার্ষিক বনসাই প্রদর্শনী

প্রকাশ:

অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাওয়া একটি কামিনীগাছ, যা বনসাই হিসেবে অত্যন্ত যত্ন ও পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে, এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এর নিয়মিত ফুল ফোটার পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন আকৃতি একে অনন্য করে তুলেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বনসাইটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে থাকা বনসাইগুলোর মধ্যে এটিই বয়সে সবচেয়ে পুরনো।

বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটির (বিবিএস) আয়োজনে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কের ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে ২৫তম বার্ষিক এই প্রদর্শনীর পর্দা উঠেছে। চার দিনব্যাপী এই আয়োজন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া সোসাইটির এই নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বনসাইশিল্পকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির চেয়ারম্যান শিল্পী মোস্তাফিজুল হক। তিনি জানান, বনসাইচর্চা এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি নাজমা শফিক। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি শাখার উপপ্রধান মিজ তাকাহাসি মনোরি, অভিনেত্রী আফসানা মিমি এবং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।

প্রদর্শনীজুড়ে তিন শতাধিক বনসাইয়ের সমারোহ রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য ৫০০ টাকা। এখানে বঁইচি, তমাল, ঘূর্ণি ও খৈয়া-বাবলার মতো দুর্লভ প্রজাতিসহ বট, পাকুড়, তেঁতুল, হিজল, অর্জুন ও শেওড়ার মতো দেশি গাছের বনসাই প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া ফাইকাস, প্রেমনা, জেড ও চায়নিজ এল্মের মতো নানা জাতের গাছ বাগানবিলাসের সাথে টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দর্শকদের জন্য এটি যেন ছোট গাছের এক বিশাল উদ্যানে ভ্রমণের মতো অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে।

বনসাইয়ের নান্দনিকতা কেবল বয়স নয়, বরং এর পাত্র, মাটি ও গঠনের ওপর নির্ভর করে। অনেকে পাথর, শেওলা বা ছোট গুল্ম ব্যবহার করে ক্ষুদ্র আকারে পাহাড় বা বনভূমির পরিবেশ ফুটিয়ে তুলেছেন। কোথাও আবার জাপানি সাধকের ভাস্কর্য বা কাঠের ফ্রেমে চমৎকার উপস্থাপন চোখে পড়ার মতো। কিছু গাছকে দেখে মনে হয় যেন সেগুলো নৃত্যরত, যা শিল্পীদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও মমতার প্রতিফলন।

তবে এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বনসাইচর্চা এখনো শখের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক জানান, মূলত শহরকেন্দ্রিক এই চর্চা পেশাদার রূপ পায়নি। রাজধানীর ছোট বাসায় বা বারান্দায় এটি লালন করা কষ্টসাধ্য। এছাড়া ছাদকৃষির মতো অর্থনৈতিক উপযোগিতা না থাকায় এবং কিছু অসাধু নার্সারি ব্যবসায়ীর নিম্নমানের গাছ বিক্রির কারণেও অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিদেশে এটি বাণিজ্যিক হলেও বাংলাদেশে এখনো ব্যক্তিগত শখের পর্যায়েই রয়ে গেছে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বনসাই সমিতি নিয়মিত প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অফিস বা ঘর সাজানোর জন্য বনসাইয়ের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগে অনেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বনসাইশিল্পের চর্চা করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনীর আয়োজনের মতো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বনসাই চর্চার প্রসারে সোসাইটি কাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুল, ফল, ঔষধি, সহজলভ্য চেনাজানা গাছসহ দুর্লভ প্রজাতির অনেক গাছেরই দেখা মিলবে এখানে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবারের প্রদর্শনীতে শহরের মানুষের কাছে সজীব সবুজ দেশি গাছ, বিশেষ করে বেশ কিছু দুর্লভ প্রজাতির গাছের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে উদ্যোক্তাদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রদর্শনীতে তিন শতাধিক বনসাই আছে, যেগুলো ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ লাখ টাকায় পাওয়া যাবে বলে জানালেন আয়োজকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বনসাইয়ের ক্ষেত্রে কেবল বয়সই প্রধান বিবেচ্য নয়, বরং গাছের নান্দনিক আকৃতি, যে টব বা পাত্রে গাছটি রোপণ করা হয় তার গড়ন, গাছতলার মাটি—এসবও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন