কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালের মোকামে হঠাৎ করেই সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় খুচরা বাজারে। সেখানে বাসমতি, মিনিকেট, কাজল লতা, আটাইশ ও স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। চালের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
কুষ্টিয়া পৌরবাজারে চাল কিনতে আসা শহরের মিলপাড়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন জানান, গত সপ্তাহে তিনি ২৫ কেজি ওজনের মিনিকেট চালের বস্তা ১ হাজার ৬২৫ টাকায় কিনেছিলেন। অথচ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই বস্তার দাম বেড়ে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বাজার মনিটরিংয়ের অভাবকে দায়ী করেছেন।
মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ বাজারে ধানের হাটের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে ধানের দাম সেভাবে বাড়েনি। সেখানে মিনিকেট চাল উৎপাদনের সরু ধান মণপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকায় এবং বিনা-৭ জাতের ধান ১ হাজার ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কৃষকের কাছে এখন তেমন ধান নেই। মিল মালিকরা আগেই ধান কিনে গুদামজাত করে রাখায় তারা নিজেদের ইচ্ছামতো চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
খাজানগরের হযরত অটোরাইচ মিলের মালিক হযরত আলী দাবি করেন, ধানের দাম বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তার তথ্যমতে, গতকাল মিলগেটে বাসমতি চাল ৮৫ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা আজ বেড়ে যথাক্রমে ৮৮ টাকা ও ৬২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর ফলে খুচরা বাজারে ভোক্তারা বাসমতি চাল ৯০ টাকা ও মিনিকেট চাল ৭০ টাকা কেজি দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কুষ্টিয়া পৌরবাজারের চাল ব্যবসায়ী চাঁদ আলী জানান, মিল মালিকরা দাম বাড়াচ্ছেন বলেই তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মিল মালিকরা দাম কমালে খুচরা পর্যায়েও দাম কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, কোন কোন মিল মালিক চালের দাম বাড়াচ্ছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দু-এক দিনের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জনসাধারণকে চালের দাম বৃদ্ধিকারীদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।





