১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনির ২৮৮ পরিবারের পুনর্বাসনসহ সাত দফা দাবি

প্রকাশ:

মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট ‘ডি’ টাইপ কলোনির ২৮৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলোনি কল্যাণ সমিতি। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মারগুব আহমেদ নাজাম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনোয়ারুল কামাল উপস্থিত থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

নেতারা জানান, ১৯৬০ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং একটি জার্মান এনজিওর সহায়তায় কলোনিটিতে ২৮৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তারা ২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছেন এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্রে এই ঠিকানাই রয়েছে। ২০১৯ সালে ‘কনকচাঁপা’ ও ‘দোলনচাঁপা’ নামে ৪৩০টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের সময় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) পুরোনো কলোনির ২৮৮টি পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিল।

সংগঠনটির অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং নানা শর্ত পরিবর্তন করেছে। তারা দাবি করেন, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৭৬৪১/২০২১ ও ১৮৩২৮/২০২৫-এর রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বকেয়া ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং জামানত বাবদ প্রতিটি পরিবারের ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচের পরও ২৫৭টি আবেদনের মধ্যে ১২৭টি আবেদন অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মূল ২৮৮ পরিবারের মধ্যে ১১৫টির নথি গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ফ্ল্যাটের দাম নতুন আবেদনকারীদের সমান অর্থাৎ প্রতি বর্গফুট ৬ হাজার ৫৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কিস্তি পরিশোধের সময় আট বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করা হয়েছে। সংরক্ষিত কোটায় ৫২টি, গ্রেডেশনে ৫৬টি এবং বিতর্কিত লটারির মাধ্যমে ৫৬টিসহ মোট ১৬৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাগৃকের তৎকালীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের নামে ফ্ল্যাট নেওয়া এবং চার কর্মকর্তার লটারি ছাড়াই একাধিক ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ দখলের অভিযোগও করা হয়। এছাড়া ভবন ভাঙার সময় প্রায় দুই কোটি টাকার সরঞ্জাম আত্মসাতের দাবিও করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির পরিবর্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে আদালতের রায় বাস্তবায়ন, ২৮৮ পরিবারের জন্য ২৮৮ ফ্ল্যাট বরাদ্দ, মানবিক কিস্তি সুবিধা, বাদ পড়া ৩৫ পরিবারকে পুনরায় আবেদনের সুযোগ, দোলনচাঁপা প্রকল্পে ভবনভিত্তিক বৈষম্য দূর করা, কনকচাঁপায় অতিরিক্ত তিনটি লিফট স্থাপন এবং বাইতুস সুজুদ জামে মসজিদকে প্রকল্পের স্থায়ী অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়া জাগৃকের বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিও জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন