১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতে চার অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত

প্রকাশ:

চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত ‘বিএফএ গ্লোবাল হেলথ ফোরাম ২০২৬ হাইকো কনফারেন্সে’ যোগ দিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার এই সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য চারটি প্রধান অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এই অগ্রাধিকারগুলো হলো—ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের শক্তিশালী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশে রফতানি হচ্ছে। তিনি চীনের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের প্রবেশাধিকার সহজ করার পাশাপাশি এপিআই উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এশিয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা এবং প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এছাড়া টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এর স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দেশগুলো সামনে কতটা ভালোভাবে সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নেয় তার ওপর। এশিয়ায় সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন