১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের গডফাদারদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

প্রকাশ:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মাদকের গডফাদার হিসেবে সরকারদলীয় কিংবা বিরোধী দলের কোনো নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে, তাদের ধরতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত কাঁপা উচিত নয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন। এমনকি যদি নিজের রাজনৈতিক দলের কোনো শক্তিশালী নেতাও পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা করেন, তার ক্ষেত্রেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এখানে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। জনগণের মধ্যে যদি এমন ধারণা তৈরি হয় যে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে সাহস পাচ্ছে না, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, গত সপ্তাহে বিএনপির এক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও কারবারের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি পুলিশকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর মাদক পরীক্ষায় ওই নেতার ফলাফল পজিটিভ আসায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রথম শর্ত হলো নৈতিকভাবে স্বচ্ছ হওয়া। জনগণের কাছে মাদকমুক্ত ভাবমূর্তি বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বাগেরহাটের ১০ জন মাদক কারবারির কারণে পুরো দলের সুনাম নষ্ট হোক, এটা তারা চান না।

জামিন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জামিন পাওয়া আদালতের বিষয়, তবে ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া তিনি গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই সময়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন। সভায় বাগেরহাটের স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন