৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ:

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. আ ফ ম রুহুল হক এবং তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো: তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী রুহুল হকের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, রুহুল হকের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৫ কোটি তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা, যেখানে তার বৈধ আয়ের উৎস ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।

অন্যদিকে, তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে আট কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। জিয়াউল হকের স্থাবর ও অস্থাবরসহ মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকা এবং নীট সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ১৬ কোটি ৬৩ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৮ টাকা। তার নামে থাকা ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যার মধ্যে বর্তমানে এক কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেয়ারিং করে অর্থের উৎস গোপন ও বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ড. আ ফ ম রুহুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে। এছাড়া জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে একই আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেন।

দুদক সূত্র আরো জানায়, জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ এক হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে বর্তমানে এক কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।

শেয়ার করুন