ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংগ্রহশালায় ছবি প্রদর্শন ছাড়াও ডাকসুর বিরুদ্ধে আরও দুটি বিষয়ে তদন্ত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও বিধিমালার পরিপন্থী।
শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালুর বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো ছাত্র সংসদ বা ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে এমন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী একটি শাস্তিমূলক অপরাধ।
উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, তিনি ডাকসুর নেওয়া এসব কার্যক্রম সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন বা সমান্তরাল কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই এবং এমন যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও বিধিমালার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে গ্রহণ করবে।





