ফাঁসির দাবি কেন করছেন ইয়াসিন মালিক? উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ:

তিহার জেলে বন্দী জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) নেতা ইয়াসিন মালিক শ্রীনগরের একটি আদালতে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট একটি ২৫ পৃষ্ঠার হলফনামা জমা দিয়েছেন। এটি কেবল একজন বন্দীর অসিয়ত নয়, বরং ভারতীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র। ইয়াসিন মালিক অত্যন্ত মর্যাদা ও সাহসের সাথে আদালতে নিজের মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি দাবি করেছেন। তার মতে, এই ফাঁসি কার্যত তার হত্যাকারীদের মৃত্যু ডেকে আনবে।

১৯৯০ সালের ১৯ এপ্রিল সরলা ভাট নামে এক হিন্দু নার্সকে হত্যার অভিযোগে ইয়াসিন মালিকের বিচার চলছে। তবে তিনি এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। ইয়াসিন মালিকের দাবি, ১৯৯০ সালের ৮ এপ্রিল তিনি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং ১৯৯০ সালের ২৬ এপ্রিল দূরদর্শনে তার মৃত্যু ও গোপন দাফনের খবর প্রচার করা হয়েছিল। তিনি জানান, গ্রেফতারের অনেক পরে ১৯৯১ সালে এক তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি সরলা ভাটের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানতে পারেন।

হলফনামায় তিনি দাবি করেন, ১৯৯০ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর তার সাথে দেখা করতে ও নৈশভোজ করতে চেয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এর শাস্তি হিসেবে তাকে দিল্লি থেকে আগ্রা জেলে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০০০ সালে তৎকালীন আইবি পরিচালক অজিত কুমার দোভাল এবং অটল বিহারি বাজপেয়ির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্র জেলে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ইয়াসিন মালিক অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং ভারত সরকার পাসপোর্ট দেয়। ব্রজেশ মিশ্র বাজপেয়ির পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার ডলার পাঠালেও তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে তিনি পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত ড. মালিহা লোধির পাঠানো ৩০ হাজার ডলারও গ্রহণ করেননি।

ইয়াসিন মালিক নরেন্দ্র মোদি ও অজিত দোভালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মোদি ২০১৯ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে মনমোহন সিংয়ের সাথে তার সাক্ষাতের ছবি ব্যবহার করে তাকে 'হিন্দু পণ্ডিতদের খুনি' হিসেবে প্রচার করেছেন, অথচ অজিত দোভালের সাথে তার জেলে সাক্ষাতের বিষয়টি চেপে গেছেন। সাংবাদিক হামিদ মীরের সাথে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে ইসলামাবাদের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে ইয়াসিন মালিকের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক উন্মোচিত হয়েছে। তিনি ওমর আবদুল্লাহর সাথে তার এক টিভি শোয়ের বিতর্ক এবং জেনারেল মোশাররফের সাথে মতপার্থক্যের কথাও স্মরণ করেছেন।

হলফনামার শেষে ইয়াসিন মালিক আত্মপক্ষ সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তাকে ফাঁসি দেওয়া হোক, কারণ এই আদালত তাকে ফাঁসিতে লটকানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। পরিশেষে তিনি তার স্ত্রী মিশআল মালিককে নতুন জীবন শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং মেয়ে রাজিয়া সুলতানাকে তার দাদীর খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন