গ্রামীণফোনের সাবেক ২১ জন কর্মী ও ইউনিয়ন নেতার দায়ের করা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে টেলিনর এএসএ-এর সঙ্গে ছয় মাসের সংলাপ শুরু করেছে নরওয়ের ন্যাশনাল কন্টাক্ট পয়েন্ট ফর রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট। নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই স্বাধীন সংস্থাটি অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (OECD)-এর নির্দেশনার আলোকে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
অভিযোগের সূত্রপাত ২০১২ সালে। সাবেক কর্মীদের ভাষ্যমতে, ওই বছরের ২৩ জুলাই গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন নিবন্ধনের আবেদন করার ঠিক পরদিন ২০০ জনেরও বেশি কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতদের তালিকায় ইউনিয়নের সভাপতি, সহসভাপতি ও যোগাযোগ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, পুনর্গঠন কর্মসূচির আড়ালে ইউনিয়ন-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০১২ সালেই কর্মীরা শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৩ সালে আপিল বিভাগ মামলাগুলো পরিচালনার পথ প্রশস্ত করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগকারীদের মতে, এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO)-এর কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।
নরওয়ের ন্যাশনাল কন্টাক্ট পয়েন্ট ইউনিয়ন-সংশ্লিষ্ট চাকরিচ্যুতি, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগগুলো পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, অভিযোগ গ্রহণ করা মানেই টেলিনর বা গ্রামীণফোন কোনো অন্যায় করেছে—এমন সিদ্ধান্ত নয়। এই ছয় মাসের সংলাপ ব্যর্থ হলে সংস্থাটি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, টেলিনর তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ২০১২ সালের কর্মী ছাঁটাই ছিল একটি ব্যবসায়িক রূপান্তরের অংশ, যার সঙ্গে ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে টেলিনর সরাসরি যুক্ত ছিল না বলেও তারা জানিয়েছে। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নরওয়ের এই প্রক্রিয়াটি কোনো অপরাধ বা অনিয়মের সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার একটি সুযোগ মাত্র। উল্লেখ্য, গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টেলিনর।





