প্রশাসনে পদোন্নতি ও এসএসবির সক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা

প্রকাশ:

সরকার গঠনের চার মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের মূল চিত্র ও মেরিটোক্র্যাসির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর বিপরীতে বিতর্কিত, দণ্ডপ্রাপ্ত এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ১৮০ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার ঘটনাটি প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই তালিকায় বিভাগীয় মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রত্যাহারকৃত এবং অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এমন অসংগতিপূর্ণ পদোন্নতির কারণে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

পদোন্নতি তালিকার ৫৩ নম্বরে রয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ১৪তম ব্যাচে যোগদান করা মো: মাইনুল হক ভূইয়া। এই কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের সাথে উপসচিব হিসেবে ২০১৮ সালে ডিএস পুলে যোগদান করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটিডি) উপসচিব হিসেবে এই কর্মকর্তা গত ৩০ জুন অবসরে যাওয়ার পরও যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়া কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংযুক্ত হওয়া ছাদেকুর রহমানও পদোন্নতি তালিকায় ৬৭ নম্বরে স্থান পেয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। একই তালিকায় ২৫ নম্বরে রয়েছেন দুলাল চন্দ্র সূত্রধর। ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের ভূমি অধিগ্রহণে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলামের ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে দুলাল চন্দ্র সূত্রধরের নাম উঠে এসেছিল।

প্রশাসনের শীর্ষ এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এসএসবির সভাপতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং এর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। এসএসবির এসব কর্মকর্তাদের বেশির ভাগের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত। এসব কর্মকর্তা অতীতে অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভোগছেন। ফলে তাদের মেধার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাচ্ছে না সরকার। এ ছাড়া দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর প্রশাসনের বাইরে থাকায় তারা বর্তমানে কর্মরত ব্যাচগুলোর কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত নন, যা যোগ্য কর্মকর্তা বাছাইয়ে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এসএসবির বৈঠক পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসএসবির বৈঠক সম্পাদনে সহায়তা করেন। সদস্যরা প্রতিটি বৈঠকের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সম্মানি নেন। বৈঠকের সদস্য, অ্যাজেন্ডাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ, শাখা ও অধিশাখার কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ৫০ জনের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। প্রতি বৈঠকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোরবানির গরু কেনার জন্য সম্মানি পেতে ঈদের আগেও তড়িঘড়ি করে এসএসবি বৈঠক করা হয়েছে। নেটিজেনরা এই পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করছেন। ২০০২ সালের পদোন্নতি বিধিমালায় সুস্পষ্ট শর্ত থাকলেও বোর্ডের অস্পষ্ট ও অজ্ঞাত সব শর্তের কারণে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।

শেয়ার করুন