চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানিহাটি বাজার ইদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে জুমার খুতবায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নামাজে অস্বাভাবিক বিলম্বসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে মুসল্লিদের একাংশের তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার খুতবায় ইমামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর মুসল্লিদের একাংশ প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি নিয়ে অন্তত অর্ধশতাধিক মুসল্লি মসজিদ কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইমামকে পদত্যাগের আহ্বান জানায় কমিটি। পদত্যাগ না করলে তাকে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। এর পরপরই মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতিপত্র জমা দেন। অব্যাহতিপত্রে তিনি এশার নামাজ পর্যন্ত ইমামতির সুযোগ চেয়েছিলেন, তবে মসজিদ কমিটি তা নাকচ করে দেয় এবং বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে মুসল্লিরা ইমামের বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বেগানা নারীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলা, ফরজ নামাজে অস্বাভাবিক সময়ক্ষেপণ, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ইমামের পরিবারের সদস্যদের আচরণগত সমস্যা এবং মুসল্লিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান জানান, ইমাম নিয়োগের সময়ই শর্ত থাকে যে কোনো ব্যক্তি বা দলের নাম নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া যাবে না। গত শুক্রবারের ঘটনায় মুসল্লিদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সভায় ইমাম নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ দাবি করেন, খুতবায় ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনার সময় তিনি উদাহরণ হিসেবে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে তিনি কোনো মানহানিকর বা আপত্তিকর মন্তব্য করেননি। মুসল্লিদের একাংশের তোপের মুখে এবং কমিটির আহ্বানেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি।
বিষয়টি উল্লেখ করে আরও অন্তত ৭ দফা অভিযোগ তুলে ধরে অভিযোগপত্র দেন মুসল্লিরা।





