রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের কর্মসূচির ওষুধ ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনগণের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে এবং মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। শফিকুর রহমান জানান, জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং রাজপথে কোনো বাধাকেই তারা পরোয়া করবেন না। লংমার্চের পূর্বনির্ধারিত ছয়টি দাবির সঙ্গে সপ্তম দফা হিসেবে তিনি দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বরদাশত না করার ঘোষণা দেন।
সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নুর হোসেন, ইয়াসমিন কিংবা ডা. মিলনের মতো ঘটনাগুলো অতীতে গদি ওলটপালট করে দিয়েছিল।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার বাধা দিলে লংমার্চের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে ১১ দল তা আদায়ে বাধ্য করবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্বৈরশাসকদের যে পরিণতি হয়, লংমার্চের বার্তা না বুঝলে বর্তমান সরকারেরও সেই পরিণতি অপেক্ষা করছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হামিদুর রহমান আযাদ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিন, সিবগাতুল্লাহ, আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, মজিবুর রহমান (মঞ্জু), মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), রাশেদ প্রধান, আনোয়ারুল ইসলাম, মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং আখতার হোসেন।





