কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। সেই হারের তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আটলাস লায়ন্সরা। অন্যদিকে ফরাসিদের লক্ষ্য টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করা। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের গিলেট স্টেডিয়ামে এই গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
পরিসংখ্যানের বিচারে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও মরক্কো তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। দুই দলের সাতবারের দেখায় ফরাসিরা এখন পর্যন্ত অপরাজিত; তারা তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং তিনটি ড্র হয়েছে। যদিও ১৯৯৮ সালের একটি প্রীতি টুর্নামেন্টে টাইব্রেকারে মরক্কো জিতেছিল, তবে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ২-২ ড্র ছিল। ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের দাপট অব্যাহত রয়েছে।
এবারের ম্যাচে জয় পেলে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বে ফ্রান্স। বিপরীতে মরক্কো জয়ী হলে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার নতুন ইতিহাস রচনা করবে। ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তিও একমাত্র মরক্কোরই রয়েছে।
মরক্কোর রক্ষণভাগের প্রাণভোমরা আশরাফ হাকিমি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত ২১টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, যা এই সময়ে বিশ্বের যেকোনো ডিফেন্ডারের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি আসরে তার তৈরি করা ১৫টি সুযোগ ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো আফ্রিকান ডিফেন্ডারের জন্য রেকর্ড।
ফ্রান্সের জয়ের মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন সাত। আট গোল নিয়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির রেকর্ডে ভাগ বসাতে আজ অন্তত একটি গোল প্রয়োজন এমবাপ্পের। এছাড়া ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে আর একটি অ্যাসিস্ট করলেই ১৯৭০ সালে পেলের গড়া এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ডে নাম লেখাবেন।
ডাগআউটেও আজ এক বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হবে ফুটবল বিশ্ব। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি কোচ হিসেবে দিদিয়ে দেশমের ২৫তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি হেলমুট শ্যোনের সর্বাধিক ২৫ ম্যাচে কোচিং করানোর রেকর্ডে ভাগ বসাবেন। প্রতিশোধ, ইতিহাস গড়া এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের হাতছানিতে বস্টনের এই ম্যাচটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় কোয়ার্টার ফাইনাল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





