মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রধান কোচ ও বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক দিদিয়ের দেশম দলের ধারাবাহিক সাফল্যের রহস্য উন্মোচন করেছেন। ২০১৮ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়া দেশম মনে করেন, সাফল্যের পেছনে তার কোনো রহস্য নেই, বরং মূল কৃতিত্বটা তার দলের খেলোয়াড়দের। তিনি বলেন, আমার কোনো রহস্য নেই। এক ঝাঁক অতি ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে এবং তারাই মূলত এই সাফল্যের মূল উপাদান। কোচ হিসেবে নিজের সামান্য অবদানের কথা হাসিমুখে স্বীকার করলেও তিনি মূল কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের হাতেই তুলে দিয়েছেন।
দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন দেশম। ২০১৮ বিশ্বকাপে তরুণ প্রতিভা হিসেবে নিজেকে জানান দেওয়া এমবাপ্পে এখন দলের নেতা। ফরাসি কোচের ভাষায়, সে আমাদের দলের একজন রোল মডেল এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই সে অসাধারণ। আক্রমণভাগের তারকাদের পাশাপাশি রক্ষণভাগের ভূমিকার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন দেশম। নক আউট পর্বে কোনো গোল হজম না করার পেছনে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানের কথা তিনি স্মরণ করেছেন।
প্রতিপক্ষ মরক্কোর পারফরম্যান্স নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন দেশম। টানা দুই বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো আফ্রিকার দেশটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন তিনি। তিনি জানান, মরক্কো যথেষ্ট ভালো দল এবং তাদের অনেক তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যার ফলে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। আজকের ম্যাচের জন্য তার দল যথেষ্ট সতর্ক ছিল বলেও জানান তিনি।
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতানো দেশম তার দুই ভূমিকার অভিজ্ঞতার পার্থক্যও তুলে ধরেন। খেলোয়াড় হিসেবে এক ধরনের অভিজ্ঞতা আর কোচ হিসেবে অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোচ হিসেবে প্রতি বিশ্বকাপেই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। বর্তমানে সেমিফাইনালের লক্ষ্য নিয়েই তিনি আপাতত মনোযোগী বলে জানান।
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশম। দুই দশক পর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে দলকে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে তুলেছিলেন ফাইনালে, আর এবারও দলকে নিয়ে পৌঁছে গেছেন শেষ চারে।





