নাটোরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলার মোট ৭৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২৯টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি পড়ে আছে। বর্তমানে মাত্র ৩০৯ জন প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, যার ফলে জেলার ৫৮ শতাংশ বিদ্যালয়ই প্রধান শিক্ষকবিহীন অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে সহকারী শিক্ষকের পদও জেলায় ৩০৩টি শূন্য থাকায় (মোট ৪,১২২টি পদের বিপরীতে ৩,৮১৯ জন কর্মরত) শিক্ষকসংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, নাটোর সদরে ১০২টি পদের বিপরীতে ৫৮টি, নলডাঙ্গায় ৭২টির মধ্যে ৫১টি, গুরুদাসপুরে ৯০টির মধ্যে ৪৪টি, বাগাতিপাড়ায় ৫৬টির মধ্যে ৩৮টি, লালপুরে ১১২টির মধ্যে ৭২টি, বড়াইগ্রামে ৯৬টির মধ্যে ৫০টি এবং সিংড়ায় ২১০টি পদের মধ্যে ১৩০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পাঠদানের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিদ কুমার মৈত্র অলক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সচেতনতা সৃষ্টি বা মহল্লায় গিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করার কর্মসূচিগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সারা দেশে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সরকার দ্রুত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এই শূন্য পদগুলো পূরণের চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হবে।





