নেপালের আকস্মিক বন্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উজানের এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত একটি কারণ হলেও, এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ডে তেমন কোনো তথ্য নেই। এর পরিবর্তে হিমবাহ হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে চাপ বেড়ে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ি নদীতে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হলে পানির চাপে তা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে কাদা ও বড় পাথরের প্রবাহ ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
নেপালের এই বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নেপালের মতো নয়, তবুও আমাদের এখানেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে। এ ধরনের বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ভূমিকম্প হলে আমাদের চিন্তার বড় জায়গা হচ্ছে কাপ্তাই লেক এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ। বাঁধটি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা এর কোনো দুর্বল জায়গা ভেঙে পড়লে বিপুল পরিমাণ পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। বর্ষাকালে যদি এমন ঘটনা ঘটে, যখন লেকে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, তবে কাপ্তাই শহরসহ আশপাশের এলাকার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
১৯৬২ সালে চালুর পর থেকে বাঁধটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাঁধটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কাঠামোগত সক্ষমতা, ফাটল বা দুর্বলতা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। বাঁধের ওপর পানির চাপ এবং তা সহ্য করার ক্ষমতা বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়মিত পরিমাপ করা প্রয়োজন। নেপালের ঘটনাকে আমাদের পাহাড়ি এলাকায় বাঁধ এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।
অর্থাৎ ওই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।.নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯.এখন এই ভূমিকম্প যদি হয়, তখন আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গাগুলোর একটি হচ্ছে কাপ্তাই লেক এবং কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ।
কাজেই নেপালে যে ধরনের আকস্মিক পানির প্রবাহ আমরা দেখলাম, আমাদের এখানেও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তেমন একটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।.১১ বছর পর নেপালে বড় দুর্যোগ, নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা.১৯৬২ সালে বাঁধটি যখন চালু হয়, তখন থেকে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না—সেটি





