রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ৫২ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান আসামিদের কারাগারে এবং কিশোরদের উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন জানান। বৃহস্পতিবার রাতে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লক, রোড-২৮-এর একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েক জন পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে ৫৪ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, আটককৃতরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। তারা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করে। জব্দ করা ব্যানারগুলোতে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের তথ্য ছিল এবং কিছু ব্যানারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবিও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শোক দিবস পালন ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়েছিল। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— মোতালিব, মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমন, লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক ও আশিক। এছাড়া দুই কিশোর হলেন ঈশান ও হাসিব।





