সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি এবং তীব্র জনবলসংকট দূর করতে বড় ধরনের নিয়োগ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) মোট ২ হাজার ৪৮০টি পদে সরাসরি নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এর অধীনে ১০ম গ্রেডের ১ হাজার ৫৬৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৯১৪ জন মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। তিনি জানান, ‘আমি অল্প দিন হলো এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বড় নিয়োগ, পদ ২২৮।
সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতা
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ ফাঁকা রয়েছে। এই সংকট কাটাতে প্রায় সাত মাস আগে ১ হাজার ৫৬৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে তথ্যে অসংগতি থাকায় সে সময় প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে।
নিয়োগের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগ) উপসচিব খুরশীদ আলম জানান, গত ২৪ মার্চ পিএসসিতে প্রথম চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পদসংখ্যা ও আনুষঙ্গিক তথ্যে ত্রুটি থাকায় পিএসসি তা ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে পদসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে গত ৭ অক্টোবর সংশোধিত চাহিদাপত্র পুনরায় পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দাপ্তরিক ভুল সংশোধনের বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীরা প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে ৭ মাসের ধীরগতি। কিন্তু তথ্যের অসংগতির কারণে এ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে।
মিডওয়াইফ পদে ৯১৪ জনের নতুন আবেদন
মাঠপর্যায়ে মাতৃ ও নবজাতকের সেবা নিশ্চিত করতে ১০ম গ্রেডের ৯১৪ জন মিডওয়াইফ নিয়োগের চাহিদাপত্র ৫ অক্টোবর পিএসসিতে পাঠিয়েছে নার্সিং সেবা-১ শাখা। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। বিধি অনুযায়ী ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করে বাকি ৯১৪টি পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়। অন্যদিকে মিডওয়াইফ পদের চাহিদাপত্রটি সম্প্রতি পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। চাকরি পাওয়ার হারে ইউরোপের শীর্ষ ১০ দেশ কোনগুলো।
নিয়োগের যৌক্তিকতা তুলে ধরে গত ১১ অক্টোবর জার্মানির বার্লিনে এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সরকার পর্যায়ক্রমে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মিডওয়াইফদের পেছনে ব্যয় মূলত মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানোর কার্যকর জাতীয় বিনিয়োগ। এ লক্ষ্যে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো রূপান্তরসহ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদার করা হচ্ছে।
দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রথাগত চিকিৎসাকেন্দ্রিক মডেল থেকে সরে এসে রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ।
প্রশাসনিক বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক নার্সিং চাকরিপ্রার্থী বলেন, দাপ্তরিক ভুল সংশোধনেই যদি ছয়-সাত মাস চলে যায়, তবে চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ভালো উদ্যোগগুলো যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে, সে বিষয়ে জোর দেন তিনি।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, পিএসসির নিয়ম ও চেকলিস্ট অনুসরণে ফাইল সম্পূর্ণ নিখুঁত হতে হয়। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুযায়ী দ্রুতই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতি নির্ধারণ ও বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক গতি আনলে এবং ১,৫৬৬ জন নার্স ও ৯১৪ জন মিডওয়াইফ দ্রুত নিয়োগ পেলে স্বাস্থ্য খাতের জনবলসংকট অনেকটাই লাঘব হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ।





